Monday, 11 November 2019

নীলা হবার ১০৮টি উপায়😉


আমি তেমন টিপস জানি না। তবে নিজে যা যা বিশ্বাস করি বললাম। সবকটা ফালতু মনে হতে পারে। অন্যের টিপস একদম নিজের জীবনে আপ্লাই করবেন না, নিজে যা ভালো বুঝবেন করবেন(এটাও টিপস)। কেবল আমার আগের লেখায় কয়েকজন লিখেছেন গা বাঁচিয়ে থাকতে কি করতে হয়, কতটা কতটা খর হতে হয়। তারই কিছু নমুনা দিলুম। চাইলে এক হপ্তা ধরে লিখতে পারি। অজস্র আছে।

টিপস ১
আগোছালো আলনা থেকে আগোছালো জীবন যখন কিছুতেই গুছিয়ে উঠতে পারবেন না, গোছানোর ইচ্ছেটাই বাতিল করুন, আর অন্যেরা কত ঠিকঠাক, আমি কেন এমন বলে  নিজেকে দোষারোপ করবেন না। জানবেন যে যত বেশি গোছানো তার শান্তি তত কম। এই বুঝি সব ঘেঁটে গেলো এই চিন্তায় দিন কাবার।
টিপস ২ 
কোনও কিছু  ভালো লাগলে অকপটে বলুন। তাতে নিজে ছোট হবেন না। বরং আপনার একজন বন্ধু বাড়লেও বাড়তে পারে।অনেক সময় যারা নিজেরা প্রশংসা পান তাঁরা অন্যদের প্রশংসার যোগ্য মনে করেন না। আসলে এরা ইনকনফিডেন্ট। এদের মতো হবেন না। এবং আপনার কেউ প্রশংসা করছে না ভেবে হতাশ হবেন না। ইনকনফিডেন্ট লোকেরা অন্যের প্রশংসা করতে ভয় পায়। আপনার ত্রুটি নেই।(এই লেখায় টিপস ২ অ্যাপ্লাই করা জরুরি নয়।)
টিপস ৩
বিনয়ী হোন। কিন্তু প্রয়োজনে রূঢ় কথা বলতে শিখুন। সত্যকথাও, নইলে আপনার মাথায় সবাই চেপে বসবে
টিপস ৪
সাক্রিফাইসিং, কম্প্রমাইসিং হবার লিমিট আছে। দাঁত চেপে এসব যাঁরা করেন তাঁরাও আসলে লোভী,  সুনামের লোভ, দেবী হবার লোভ। একবার এই ট্রাপে পড়লে আর বেরোতে পারবেন না। 

টিপস ৫
চালাক এবং স্মার্ট হবার লিমিট আছে। বেশি হবেন না। মাঝে মাঝে সারল্য প্রয়োজন। 

টিপস ৬
নিজেকে অবলা, হাবাগোবা ভাবা বন্ধ করুন। এতে অনেকে আত্মতুষ্টি পায় বটে তবে দীর্ঘদিন এই অবলার ন্যাকামি করতে করতে কনফিডেন্স তলানিতে ঠেকে।এতে আখেরে ক্ষতিই হয়। 
টিপস ৭
সংসার করতে না পারা থেকে চাকরি তে উন্নতি না হওয়া, সংসার ভাঙা থেকে চাকরি যাওয়া বা যৌন নিপীড়ন কোনও ক্ষেত্রেই নিজেকে ব্লেম করবেন না। আপনার অধিকাংশ সময়েই দোষ থাকে না। তা বলে নিজেকে পারফেক্টও ভাববেন না। বরং দুর্ঘটনা ঘটলে তলিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন।
টিপস ৮
নিজেকে নিয়ে মজা করতে শিখুন। অন্যেরা তাহলে আপনাকে নিয়ে মজা করে আরাম পাবে না।
টিপস ৯
শ্বশুরবাড়ির সমস্যা সহনীয় হলে নিজে মেটান, বাপের বাড়ি এসে বলবেন না। আপনি এক বললে তাঁরা দশ ভাববেন। আপনার বাড়ির লোকেরই দুশ্চিন্তা বাড়বে। বরের কাছে কমপ্লেন করা একেবারে চলবে না।

টিপস ১০
আমার মা বলন যাঁকে খুব খারাপ লাগছে তাঁর ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করো। নিজে শান্তি পাবে।

টিপস ১১
কেউ অত্যধিক ঘ্যাম দেখালে আপনি একেবারে উলটো আচরণ করুন। মনে মনে অবশ্য বোকা ঘ্যামওয়ালা লোকটিকে নিয়ে মজা করতেই পারেন। প্রথম প্রথম সংস্কৃতি করলে এই টিপস মোক্ষম।

টিপস ১২
যারা গোষ্ঠী বদ্ধ হয়ে একে অপরের পিঠ চাপড়ায় তাদের দলে জোর করে ঢুকতে যাবেন না। তবে আর আপনাকে ইগনোরড হবার যন্ত্রনা সইতে হবে না।সংস্কৃতি করার এটা দ্বীতিয় টিপস। 

টিপস ১৩
মানুষকে বিশ্বাস করুন। বিশেষত সহায়ককে শত্রু ভাববেন না। ভালোবাসুন প্রাণ দিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন অর্ডার আপনাকে দিতে জানতে হবে, তবে তার সফট পদ্ধতি খুঁজে বের করুন। 

টিপস ১৪ 
নিজেকে সর্বজ্ঞ প্রমাণ করতে অন্যের খুঁত ধরবেন না।

টিপস ১৫ 
অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করবেন না, কারণ আপনি বদলে তার মতো হবেন না।

টিপস ১৬
অন্যকে উপহার দিন মাঝে মাঝে। খুব ভালো লাগে। অন্যকেউ উপহার দিলে খুশি মনে নিন। তবে দেখবেন কোনও উপহার বোঝার মত ঘাড়ে চেপে বিসলে রিফিউজ করুন।
টিপস ১৭
সমস্ত দিক বালান্স করার চেষ্টা করবেন না উলটো ফল পাবেন
টিপস ১৮
কেউ যদি বলে একটা কথা বলব কাউকে বলবি না, প্রথমেই বলে দেবেন বলে ফেলতেও পারি। তাতে যদি কথাটা না শোনা হয় শেষ পর্যন্ত, তবুও আগ্রহে বুক ফাটিয়ে ফেলবেন না। কারণ আপনি না বললেও অন্য কেউ বললে সন্দেহের তীর থেকে আপনি বাঁচবেন না।
টিপস ১৯
অন্যের সামনে দাঁত, নাক খুঁটবেন না, থুতু ফেলবেন, ঢেকুর তুলবেন না, বাতকম্ম করবেন না, মাক্সি পরে ফেসবুকে ছবি দেবেন না। এর কথা ওকে লাগাবেন না।
টিপস ২০
নিয়মিত পুকুরঘাটে আসুন। এখানে,বোকা, অহঙ্কারী, ন্যাকা, ধান্দাবাজ, অতি চালাক এবং গোষ্ঠীবদ্ধদের চিনতে পারলেও প্রকাশ্যে গালি দেবেন না।

যৌনতার ধারণা জরুরি


আমাদের দেশ কনসেন্টের দেশ। কতটা খাবো, কতটা ঘুমোব, কতটা সাজব, কি কথা বলব এমন কি কার সঙ্গে এবং কবে থেকে যৌনতায় লিপ্ত হবে এসবই ঠিক করে দেন অভিভাবকরা। সচেতন পরিবারগুলি ছেলেমেয়েদের দাঁত মাজতে, নখ কাটতে, হাত ধুতে, বড়দের সম্মান করতে শেখান অথচ যৌনশিক্ষা তাঁরা দেন না। ফলত বহু ধেড়ে বয়েস পর্যন্ত অধিকাংশ যৌন আচরণ সম্পর্কে ছেলে  মেয়েরা থাকে অজ্ঞ এবং যেটুকু তারা বন্ধুবান্ধবদের থেকে এবং ইদানিং ইন্টারনেট থেকে শেখে তার অনেকটাই ভুল। আমার অবাক লাগে যখন একটি মেয়ে গল্প করে করে 'ক্লাস নাইনে যখন  আমার পিরিয়ডস হয় আগে জানতামই ব্যাপারটা কি, আমি না জানো ভয় পেয়ে গেছিলাম কি প্রচন্ড', তখন মেয়েটিকে ন্যাকা না ভেবে ইচ্ছে হয় তার বাবা মাকে মুর্খ ভাবতে। আমার এক বান্ধবীর ক্লাশ টুয়েলভে বিয়ে হয়েছিল সে যখন বলে বিয়ের আগে জানতাম চুমু খেলেই বাচ্ছা হয়ে যায় তখন ভাবি ওর বাবা মা কি ওকে বলি দেবার জন্যই জন্ম দিয়েছিল! বিয়ের আগে সামান্য শিক্ষাটুকুও দিয়ে দেয়নি। অথচ একটি কিশোরী মেয়েকে সোজা তুলে দিল লাইসেন্সড বিছানায়। আর সেই মেয়েই যখন তার ক্লাস টেনে পড়া কিশোরী কন্যা 'বাচ্ছা কি করে হয় জানে না এতো সরল' বলে বুক ফুলিয়ে গল্প করে তখন ভাবি হায়রে এই ন্যাকামি আর মুর্খামি কতদিন চলবে। এদের কে বাঁচাবে কামুকদের হাত থেকে। জানি প্রচন্ড যৌন শিক্ষা থাকলেও ধর্ষকরা, কামুকরা নির্মূল হয়ে যাবে না দেশ থেকে। তবু একটা মেয়ের অবাঞ্চিত স্পর্শটুকু বা যৌন ইঙ্গিতটুকু বোঝবার বুদ্ধি তো হবে। এই মি টুর ঝড়ে যে সমস্ত কামুকরা চিহ্নিত হয়েছেন তাদের কারও সঙ্গে কর্মসূত্রে বা কোনও রকমের পরিচয় থাকলে আপনি নিশ্চয়ই  বুঝতে পেরেছেন এঁরা কেউ সাধু পুরুষ নয়, সামান্য সময়েই সেটার একটা ধারণা পাওয়া যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে । অথচ এদের খপ্পরে পড়ছে অজস্র, শৈশব, কৈশোর, যৌবন। যৌন ক্ষুদা এবং  বিকার লুকিয়ে রাখা খুব শক্ত। কিন্তু যে সমস্ত মেয়েরা প্রতারিত, নিপীড়িত হয়েছেন তাঁরা সে ইঙ্গিতটুকু ধরার মত পরিনত হননি এটা আমাদের শিক্ষার দুর্ভাগ্য এবং অভিভাবকদের অজ্ঞতা। আর মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত থাকতে থাকতে না বলার শক্তি তৈরি না হওয়ার ফল। সদ্য ঘেরাটোপ মুক্ত মেয়েরা দ্রুত পৃথিবী জয় করতে গিয়ে এই ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ছেন কারণ আবারও বলি যৌন ইঙ্গিত না বোঝার অজ্ঞতা।
তবে এটা আশার কথা মেয়েরা যৌন নিপীড়ন  নিয়ে পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার হয়ে উঠতে পারছে। যৌন নিপীড়ন পুরুষদেরও হয়। বিশেষত পেডোফেলিকদের বাছাই তালিকায় বাচ্ছা ছেলেরা প্রায়শই থাকে। আর এটাও জেনে রাখবেন পুরুষদের দ্বারা পুরুষদের যৌন নিপীড়ন ঘটে অনেক বেশি। কিন্তু কজন পুরুষ সে ক্ষেত্রে হ্যাশ ট্যাগ মি টু দিয়ে সে কথা জানাচ্ছেন? উল্টে প্রগতিশীল পুরুষেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বোনি আমি তোমার সঙ্গে আছি বলে রঙ্গ করছেন আর আবডালের আসরে গপ্প করছেন এতোদিন এই মেয়েরা কি করছিলো, এতোদিন বলেনি কেন?  আরে তবু তো এতোদিনে বলে উঠতে পারছে মেয়েরা আপনারা তো এখনো নিশ্চুপ। উলটে বাড়ির মেয়েরা যখন তাঁর হেনস্থার কথা জানাচ্ছেন পরামর্শ দিচ্ছেন চেপে যেতে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষ আর পৌরুষ আলাদা, কিন্তু পুরুষ আর কাপুরুষে খুব ফারাক করতে পারবেন না।
মেয়েরা প্রকাশ্যে বলার সাহস যেমন অর্জন করেছে না বলার শিক্ষাও অর্জন করুক। কামুক পুরুষ নিজেকে খুব বেশি লুকিয়ে রাখতে পারে না। সামান্য ইঙ্গিতকে হালকা চালে নিয়ে যদি ভাবেন এইখানেই থেমে যাবে ভুল ভাবছেন। আপনি মা হলে সন্তানকে প্রথম থেকে যৌন শিক্ষা দিন। শিশুকে স্পর্শ এবং কিশোরীকে যৌন ইঙ্গিত ও আচরণও বোঝান। অনভিপ্রেত  বলপ্রয়োগ, আচমকা  ধর্ষন এসব ধর্ষকের মৃত্যু ভয় ছাড়া বন্ধ হবার উপায় আমি জানি না। তবে এটা বলতে পারি অপরাধী চিহ্নিত হতে ভয় পায়। তবে পরিকল্পিত অসভ্যতা বা ট্রাপে পড়ে যাওয়া আটকানো সম্ভব। মেয়েদের না বলার শক্তি অর্জন করতে হবে। আর নিজেকে অপবিত্র,  দোষী ভাবা বন্ধ করতে হবে,  যৌন বিকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন।শোস্যাল প্লাটফর্ম সে জায়গা নয়। প্রতিবাদের সঠিক ভাষা খুঁজে বের করতে হবে একজোট হয়ে। সে ভাষা,এখনও অনাবিষ্কৃত।  যদি বাড়ির লোক বলেন যা হয়েছে চেপে যাও শুনবেন না। চেপে গেলে বারেবারে মুখোমুখি হতে হবে বিকৃতের। 

আমি জানি এ জগতে এমন মানুষও আছেন যাদের অক্ষরেও কাম জেগে ওঠে। এই লেখার সামান্য নিরিহ কতগুলি শব্দও তাদের উত্তেজিত করতে পারে, এইসব ভেবে আমি লিখিনা কখনও, ইচ্ছে হয়না। আর সোশ্যাল মিডিয়ার হঠাৎ প্রতিবাদে গা ভাসানোতেও আমার বিশ্বাস নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে 'প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য’ আর চুপ নয় আর।
নীলা বন্দ্যোপাধ্যায় (২৪.১০.১৯)
নিজের যা মনে হয়

টিপ্স

#টিপস
আমি এ জীবনে সেই অর্থে সংসারী হয়ে উঠতে পারিনি। মা, শাশুড়ি,  জেঠিমা, মাসি আর মিনতি দি, মিতালিদিরা আমার জীবনটাকে এ যাবৎ চালিয়ে দিয়েছে। না করেছি রান্না-বান্না, না গুছিয়েছি ঘর, আমি ছন্নছাড়া আগোছালো তাই বই পত্তর, জামা কাপড় কিছুই লোকের সাহায্য ছাড়া তেমন গুছিয়ে গাছিয়ে রাখতে পারিনা। অর্থ বা গতর দিয়ে সংসার চালানোর দ্বায়িত্বও তেমন নেই। তাই সাংসারিক টিপস আমার তেমন জানাও নেই, দিতেও পারিনা। সম্পর্কগুলোও আমার সবই নিজের নিয়মে দিব্য ঠিকঠাক। বাড়ি, মামারবাড়ি শ্বশুরবাড়ি, এমনকি দিদি জামাইবাবুর কাছেও আহ্লাদী গোল্লাদি হয়ে জীবন কেটে গেলো।  তাই টিপস যখন বিষয় দিলাম হাজার মাথা চুলকেও নিজে কি লিখব   ভেবে পেলাম না। আত্মপ্রেমে মজে থাকো আজীবন এছাড়া আর কি'বা বলি! সমাজ, সংসার সব কিছু থেকে গা বাঁচানো মানুষরা টিপস দিতে পারে কি? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তবে কাল কিছু টিপস দেবো লোকের থেকে জেনে, আর যদি না হয় তবে আপনারা লিখুন আমি মনের সুখে কমেন্ট করব।

সেই সব স্মৃতি

নানা রকম বিলাসী ঘর থাকে। যেমন কিছু বিলাসী ঘরে কোনও আড়ম্বর থাকে না। সেই সব ঘরের মালকিনরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম. এ পাশ করেও অথবা না করে লেডিব্রেবোন ডিপ্লোমা নেয় অথবা জোগাড় করে টেক্সটাইল কলেজের সার্টিফিকেট। এরা চোদ্দ,চব্বিশ অথবা চুয়াল্লিশ বছর আগে  দুধে আলতায় পা ডুবিয়ে ঢোকার পর থেকেই  নতুন  ঘরকে বিলাসী বানাতে তৎপর হয়। নিজে হাতে পর্দায় ফেব্রিক করে। টেবিল ক্লথের কোণে কাশ্মীরি স্টিচ দিয়ে রঙ্গন ফুলের ঝাড় আঁকে, সাবেকি টিপটের জন্য কুরুশের টিকোজি বোনে, পড়ে থাকা বাঁশের টুকরোকে কুঁদে কুঁদে ফুলদানি বানায়, তাতে বেঁচে যাওয়া সাদা,নীল ফেব্রিক কালার দিয়ে নকশা কাটে। নারকেলের মালা দিয়ে অ্যাশট্রে বানায়। মেমসাহেব পুতুল কেনে মেলা থেকে, তারপর সে পাতি পুতুলকে ভাঙা বোতাম দিয়ে রেড ইন্ডিয়ান সুন্দরী বানায়। এইসব মালকীনদের শাড়ি গয়নার চেয়েও বেশি সাধ থাকে ভালো পোর্সেলিনের ডিশের আর ফুলতোলা হ্যান্ডমেড বেডকভারের। পড়ে থাকা  হরিণঘাটার শিশিতে মানিপ্ল্যাণ্ট লাগিয়ে এরা ঘরকে স্বর্গের বাগান বানাতে পারে। টিনের পাউডার কৌটো ফুটো করে এরা পয়সা জমায় আর  বেড়াতে গেলে তা দিয়ে  রাজস্থানি ওয়াল হ্যাংগিন কেনে। এইসব  বাড়ির মালিকরা বৌকে ভালোবাসে খুব, তাই মালকিনদের অভিযোগের সুযোগ থাকেনা। কেবল একটাই অভিযোগ ’ডিভানের কুশনগুলোকে দু ভাঁজ করে মাথার তলায় দিয়ে শুয়ে পড়ে ফাটিয়ে তুলো বের করে দাও কেন তুমি' অথবা ’লোক এলে কেন ঘর সাজাতে দেবেনা বলতো' ঘরের মালিক বইয়ের মধ্যে ডুবে গিয়ে কেবল উত্তর দেয় 'তুমি যেমন থাকো তেমন করে তোমায় কেউ পছন্দ না করলে সে অতিথিকে দ্বিতীয়বার ডেকোনা' এই সব মালকিনরা তাতে ঘ্যান ঘ্যান করে। 
তারপর কে কার ওপর বেশি রাগ করে  কাকপক্ষীতেও টের পায় না। কিন্তু ঘরে সুচিত্রার গান আর আমজাদের শরদের যুগলবন্দী বাজলে বোঝা যায় মান ভেঙেছে। এইসব ঘরগুলো গরমে খুব ঠান্ডা থাকে আর ঠান্ডায় ওম দেয়। ঘরের দেওয়ালের ডিস্টেমপার কালার হয় মাঝারি মানের কিন্তু স্নিগ্ধ, মেঝে হয়  লাল রঙের। এই সব ঘরগুলোতে গাদা গাদা বই থাকে। তাতে রুপোলী লেজওয়ালা বইয়ের পোকা হলে নিমের পাতা গোঁজে মালকিন। রিটায়ারমেন্টের পর মালিক মালকিন মুখোমুখি বসে বই পড়ে পাকদন্ডী আর ইউলিসিস। এই সব বিলাসী ঘরের রকম মোটামুটি এমনই হয়। 
একদিন সেই সব ঘরেরই একটা চেয়ার কেমন ফাঁকা হয়ে যায়। ফুলদানি শূন্য পড়ে থাকে, ডিভানের চাদর কুঁচকে থাকে। জানলায় ঝোলে বাজারের মোটা পর্দা, দেওয়ালের ছবিগুলো ঈষৎ বেঁকে ঝুলতে থাকে। কুশন আর কাউকে মুড়ে ফাটিয়ে দিতে হয়না। কালের নিয়মেই মুড়ে যায়। সেন্টার টেবিলে পড়ে থাকে আধ খাওয়া জলের বোতল। মালকিন একবুক অভিমান নিয়ে বসে থাকে বিলাসের স্মৃতি মাখা সোফায় আর মালিক ছবি হয় ঝোলে। সুচিত্রা মিত্র আর আমজাদের যুগলবন্দীর ক্যাসেট আর বাজেনা। কবেই ফিঁতে জড়িয়ে গেছে।

নীলা বন্দ্যোপাধ্যায়
৩০.১০.১৯
পুরোটাই ব্যক্তিগত [প্রকাশিত]

প্রাতরাশ

#জলখাবার
একমাত্র ধীর স্বভাব আর চেহারার গড়ণ ব্যাতিরেকে মেয়ে মানুষের সমস্ত গুণ বর্জন করিয়া জন্মাইয়াছিলাম আমি। জন্ম ইস্তক  এই সমস্ত শুনিয়া আমিও তাহা বিশ্বাস করি মনেপ্রাণে। ঘর গুছাইয়া রাখা, সূচীকর্ম, রন্ধন কিছুতেই আমার দক্ষতা নাই। এ জন্য অবিশ্যি কখনও আমাকে গঞ্জনা শুনিতে হয় নাই বরং সকলে বলিয়াছে আহা ও পারিবেনা আমি করিয়া দিতেছি। দিদি, মা, জেঠি, সশ্রুমাতা, বন্ধু, বোন সহায়িকা, এমনকি স্বামীও আমার মধ্য বয়সেও আমাকে এসব ক্ষেত্রে শিশুর মত প্রশ্রয় দিইয়া থাকে। বাটিতে বাটিতে, মুখে মুখে জোগান দিয়া। আমি বস্ত্রের স্তুপ, বর্তনের স্তুপ, বইয়ের স্তুপ, ধূলার স্তুপ দেখিলে আকূল পাথারে পড়ি। পেটিকায় সমস্ত কিছু কলসের মত গুঁজিয়া রাখিয়া আমার গৃহী না হইবার সুনাম বর্ধন করি। তার উপর সন্তানাদি নাই। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয় সকলে বলিয়াই দেয় 'তোর আর কি অসুবিধে 'ট্যাঁ ফ্যাঁ তো নেই, কোনও কাজ নেই' সত্যই আমার অসুবিধা নাই। কিন্তু উহাদের কে যে এতো অসুবিধা করিয়া ট্যাঁ ফ্যাঁ আমদানি করিতে বলিয়াছে জানা নাই। যাই হোক শিবের ভজন করিয়া লাভ নাই। যে প্রসঙ্গে এই ভূমিকা, সংসারে আমার ইদানিং একটি মাত্র দ্বায়িত্ব অর্পিত হইয়াছে প্রাতরাশ প্রস্তুত। সেই কাজ করিতে রন্ধনশালায় ঢুকিয়া এতো কেশ কর্ষণ করিয়া থাকি মস্তকে কেশাভাব  দেখিলেই বুঝিতে পারিবেন । আমার সশ্রুমাতা আমার অবস্থা অনুধাবন করিয়া বলেন 'ছাড়তো ছেলেদের খালি নোলা আমায় ওটস দিয়ে ওদের পাঁউরুটি দিয়ে দাও’ শ্বশুরমহাশয় কিছুই বলেন না, আর উহাদের পুত্র বলেন 'আমি কী কখনও কিছু ডিমান্ড করেছি, যা হোক দিলেই হবে' সত্য এদের চাহিদা নাই কোনও অভিযোগও নাই। কিন্তু উহাদের মুখ দেখিয়া বুঝি ভিতরের যন্ত্রনা। তাই আমি মধ্যে মধ্যে উপমা, ডালিয়ার খিচুড়ি,  সান্ডউইচ, পরোটা সাদা আলুর তরকারি, ফ্রেঞ্চফ্রাই, দু একবার লুচি, স্ক্রাম্বেল্ড এগ, চিঁড়ের পোলাউ,এক দু বার রুটি সাধ্য মতো বানাইতে চেষ্টা করি। কি যে হইয়া উঠিল বুঝিতে পারিনা। জিজ্ঞাসা করি কেমন বানাইলাম উহারা সকলেই কহেন খুব ভালো। কিন্তু মনে মনে অবাক হন এই নিত্য কর্মে আবার এতো জানিবার কি আছে। কিন্তু গোপনে বলি যখন কোনও অনিত্য অতিথি আসিয়া বলে আপনার রন্ধন অপূর্ব, চোখ থেকে মুক্তা গড়াইয়া পড়ে অলক্ষ্যে । লোকে যতই ভাবুক আমি এই আগোছালো থাকা আর সাংসারিক অপটুত্বকে উপভোগ করি আমার মন জানে ইহা সর্বৈব মিথ্যা। কিন্তু খঞ্জের কী আর এভারেস্ট বিজয় হয়?

Saturday, 9 November 2019

ঘরেলু

যাদবপুর এইট বি তে সেদিন দেখা হলো মেয়েটির সঙ্গে। নীলা কেমন আছো বলে নিজেই এগিয়ে এলো। আগে হলে চিনতে পারতাম না এখন ফেসবুকের দৌলতে প্রায়ই মেয়েটিকে দেখি। আমার সহপাঠী ছিল কিনা মনে নেই। এক বছর ওপর বা নিচেও পড়তে পারে। ওকে মনে আছে কারণ ওর প্রেমিক আর আমার একই বিভাগ ছিল। ছেলেটির কথা মনে পড়ায় বললাম অমুক কেমন আছে। মেয়েটি জবাব দেয় আমাদের যোগাযোগ নেই বহু বছর। অপ্রস্তুত হই। ও আমাকে নানা প্রশ্ন করছিল আমি পালটা কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ মনে পড়ল মেয়েটি কবিতা লিখত। জানতে চাইলুম লেখালিখি করছ? মেয়েটি জবাবে বলে 'ধুস কবিতার পাঠক কই। লিখেটিখে খালি শান্তি নষ্ট।' আমি জানতে চাই 'শান্তি নষ্ট কেনো!' মেয়েটি বলে 'কজন প্রতিষ্ঠিত মেয়ে লেখক, শিল্পীর একটা করে বিয়ে দেখেছ?' আমার মুখের এক্সপ্রেশন কেমন ছিল কেজানে মেয়েটি তাড়াতাড়ি বলে ওঠে 'jokes apart, মজা করছিলাম, এই তুমি না আমার বরকে চেন।' নামটা শুনে বুঝলুম আমি কেনো অনেকেই চেনে। আমি কম বলছিলাম মেয়েটি ইউনিভার্সিটির দিকে দেখিয়ে নানা স্মৃতি রোমন্থন করছিল। আর আমি ওকে দেখছিলাম, সাদা হ্যান্ডলুমের শাড়ি, বোট নেক ব্লাউজ, রূপলি গয়না, নাকে সিলভার নোসপিন। আর বাঁ হাতে প্রকান্ড সোনা বাঁধানো পলার আংটি। মেয়েটি বলে 'তখন থেকে আমার আংটিটা দেখছ কেনো গো? আমি এসব মানি না। আমার মা মানে এসব, মাকে না করতে পারি না। কষ্ট পাবে। আসলে আমার বর খুব ভালো মানুষ। আমি না খোঁচালে কোনো রাগটাগ নেই। ওর কেবল একটাই অভিযোগ আমি একদম তোমাদের মত সংসারী নই। তাই এসব মা দেয়। যদি ঠিকঠাক হইএকটু,  ঘরেলু টাইপ'। আমি ওকে আশ্বস্ত করি 'আরে না আমি এসব দেখিনি।' আমার বাস এসে যাওয়ায় আমি ওকে বিদায় জানাই। বাসে উঠে  বাসের আয়নায় দেখি আমার পেছনে লাইন দিয়ে বসে আছে আমাদের মতো  সংসারী মেয়েরা। তাদের সকলের হাতে আংটি। এমনকি আমার অনামিকাও ফাঁকা নেই।

অনিকেত

অনিকেত

এসি বাসখানা দুর্বার গতিতে ছুটছিল রেড রোডের ওপর দিয়ে। শীতের দুপুরের মিঠে রোদ ঠিকরে আসছিল আমার ডান কপালের ওপরে। নাকে আসছিল একটা মৃদু সুবাস। বোধহয় পাশে বসা অবাঙালি সহযাত্রিনীর গায়ের সুগন্ধি। ঘাড় ফিরিয়ে আঘ্রাণ নিতেই অল্প হাসলেন, প্রত্যুত্তরে আমিও হাসলাম, ওই অল্পই। খানিক আগেই ফেলে এসেছি  গাঢ় কমলা রঙের লেবু, মস্ত মস্ত আকারের চকচকে সবুজ বোম্বাই কুল, একরাশ বেলুন, রঙবেরঙরে সোয়েটার, কলকল করে কথা বলে যাওয়া এক ঝাঁক ছেলে-মেয়ে, গড়ের মাঠের ক্রিকেট প্রাক্টিস ,ময়দানের তাঁবু! শীতের কলকাতার রূপ যেন ঝরে ঝরে পড়ছিল সেদিন। পাশে বসা ভদ্রমহিলার বোধহয় কড়া এসিতে দিন রাত কাটানোর অভ্যেস, দেখলুম এই শীতের দুপুরেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। গায়ের নরম শাল খুলে কোলের ওপর রেখে আমায় বললেন ‘আসলে গাড়ি আচানক খারাব হয়ে গেলো রাস্তায়, ড্রাইভার এই বাসডাতে তুলে দিলো।‘ আমি উত্তরে কেবল হাসলুম দেখে, নিজেই বললেন ‘আলিপুর নেবে যাবো, আপ?’ বললুম বেহালা। ‘আপনার বেগটাতো খুব সুন্দর! কুথা থেকে নিলেন?’ এইবারে একটু জোরের সঙ্গেই বললুম এখানকার ব্যাগ নয় এটা। USA থেকে আনা। সহযাত্রিনী কথার সমর্থনে বললেন ‘দেখেই বুঝেছি, আমার সেম বেগ আছে, দুবাই থেকে লিয়েছিলাম।‘ আমি উত্তর দেবার আগেই বললেন ‘এ দিকটায় বড্ড ভিড় আছে, আমার মাহকার কছে এতটা ভিড় নেই’ আমি জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতে বললেন ‘লাউডন স্ট্রিট’।আমি বললুম হ্যাঁ আমিওতো ফাঁকায় ফাঁকায় বড় হয়েছি, বড্ড হাঁফ ধরে। ভদ্রমহিলা উৎসাহিত হয়ে বললেন ‘আপনিও! ওই দিগটা এখনো  অনেক ভালো আছে বলুন। সব কেমন কাছে। কুথাও যাবার ঝামেলা কম!’
 শীতের কলকাতা আশ্চর্য ম্যাজিক জানে বটে! আজন্মকাল সিঙ্গুর, হুগলিতে বেড়ে ওঠা আমাকে একটা এসি বাস, একটা ইম্পোটেড ঘড়ি আর ব্যাগ অনায়াসে বানিয়ে দিলো রডন স্ট্রিট অথবা লাউডন স্ট্রিটের বাসিন্দা। মনে মনে গান ভাঁজছিলুম ভুতের রাজা দিলো বর... আবার প্রশ্ন ‘আপনার নাম কি আছে? ম্যারেড?’ নাহ আর কথা বলা যাবে না। বাস দ্রুত এগোচ্ছে। মিস করে যাবো শীতের কলকাতাকে। তাছাড়া বেশি বকলে কমে যেতে পারে ব্যাগের মহিমা। না শোনার ভান করে তাকিয়ে রইলুম বাইরের দিকে। পিজির এদিকটাকে মনে হয় হসপিটাল রোড বলে! বেশ আভিজাত্য আছে রাস্তাগুলোয়। ভাগ্যিস সম্পর্কসূত্রে ঠিকানা বদলে কলকাতার বাসিন্দা হয়েছি। ঝকঝকে কলকাতাকে উপভোগ করতে করতে কেন যে  সীমাবদ্ধ ছবির ডায়ালগ মনে এলো কে জানে, “ রাস্তাঘাট দেখলে বোঝা যায় এখানে এতো লোক মরটরে!” এই সময় এই সংলাপ মনে পড়ে কারও,  দিনকে দিন সিনিক হয়ে উঠছি আমি, দিব্যতো আছে বাপু সবকিছু! হঠাৎ গেটের কাছে মৃদু গুঞ্জন হতে তাকালুম । দেখলুম পায়ে প্লাস্টিকের চটি আর সামান্য মলিণ ডোরাকাটা শার্ট পরা এক ভদ্রলোককে কন্ডাক্টর বলছেন ‘উঠলেই পঁচিশ টাকা ভাড়া, দিতে পারবে তো’ ভদ্রলোক মৃদু স্বরে বললে ‘ও বাবা এতো!” পকেট থেকে মানিপার্স বের করে এগিয়ে দিলেন একটি একশ টাকার নোট। “আর নেই, একটা দশ টাকা আছে।‘’  জানি এবার বিতন্ডা চলবে। অস্বস্তি কাটাতে জানলার বাইরে চোখ দিলুম।  ওমা!আলিপুর জেলের দেখি রঙ বদলেছে, লাল থেকে নীল। ততক্ষণে বাইরের ঝকঝকে রোদটা একটু ম্লান হয়েছে। আমার কপালে আর ঝাঁপিয়ে পড়ছে না। বাস খানিক এগোতেই দেখলুম অভিজাত রাস্তাগুলো ক্রমশ কেমন মধ্যবিত্ত হচ্ছে। দেখলুম এক বৃদ্ধ এক পাঁজা ডেচকি নিয়ে মাজতে বসেছেন রাস্তার কলে। শীতে না বয়েসের ভারে জানি না, ওঁর উদোম পিঠের চামড়াটা কেমন তিরতির করে কাঁপছে। চোখ ফিরিয়ে নিতেই নাকে এলো সেই মৃদু সুবাস। জানতে চাইব ফরাসি সুগন্ধি কি না, থাক। আমার গায়েও লাগানো আছে ডিউটি ফ্রি থেকে কেনা আডিডাস আক্যোয়া, কম কি। আবার বাইরে দিকে তাকাতেই দেখলাম সুদর্শন ট্রাফিক সার্জেন্ট বাইকের কাছে হাত নিচু করে কুড়ি টাকা নিয়ে পকেটে পুরলেন। চায়ের দোকানের পাশে ঘুপচি গলিতে এক কিশোরের প্যান্ট টেনে খুলে দিচ্ছে একটা লুঙ্গি পরা লোক, ছেলেটি লজ্জায় ত্রাহি ত্রাহি চেঁচাচ্ছে  আর লোকটা লাল ছোপ ধরা দাঁত বের করে হাসছে। লালবাতির মুখে বাস দাঁড়িয়ে গেলে দেখলুম কমলা লেবুর ঝুড়ি নিয়ে রাস্তা পেরনো এক বৃদ্ধাকে কোনও নিয়ম না মানা একটা অটো ধাক্কা দিয়ে ছুটে চলেছে। আর ছিটকে পড়া বুড়ির ফুটপাতে মাথাখানা লেগে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। রাস্তায় ছিটিয়ে থাকা কমলা লেবুর ওপর দিয়ে এগিয়ে গেলো আমাদের বাস। হয়তো লেবুগুলোকে চাকার তলায় পিষে তারপর এগোল। 
হঠাত করে শীতের কলকাতা এমন হিম শীতল হয়ে গেলো কেনো! এসি কি খুব জোরে চলছে? বাইরেটাও কেমন ঝাপসা হয়ে এলো, আমার চশমার কাঁচে কি বাষ্প জমলো? নাকি বাসের জানলায়। ভাবলুম জানতে চাই ভদ্রমহিলার কাছে। চেয়ে দেখলুম পাশে বসা ভদ্রমহিলার তখন উঠি উঠি সময় হয়েছে। আমার কেনো যেন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হল নাম জানতে চেয়েছিলেন না? আমি না কলকাতার কেউ নই। আমি সিঙ্গুরের নীলা। তারপর মনে হল এখন যখন বাপের বাড়ি যাই দেখি একটু আগে দেখা মানুষরাই  ভিড় করে আছে সেখানে, কেবল নাম ঠিকানা বদল হয়েছে। ভদ্রমহিলা নেমে যাবার জন্য সিট থেকে উঠলেন। আমার দিকে চেয়ে বললেন চলি। আমি দু পলক চেয়ে বললাম আপনি নাম জানতে চেয়েছিলেন না? আমার নাম অনিকেত। ‘বহত খুবসুরত’। ভদ্রমহিলা দ্রুত এগোচ্ছিলেন দরজার দিকে। চিৎকার করে জানতে চাইলাম অনিকেত মানে জানেন। ঘাড় ফিরিয়ে বললেন ‘নেহি’। অনিকেত মানে যার কোনও বাসা নেই। আলিপুর থেকে বেহালা আর কতক্ষণ কে জানে, বড্ড শীত করছে যে।